Header Ads Widget

খাবারের বদলে ব্যাগে চাপাটি! ফুডপান্ডা সেজে জামায়াত প্রার্থীর সভায় হামলার চেষ্টা

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সভায় হামলার চেষ্টা: ফুডপান্ডা বেশে অস্ত্রসহ আটক ২

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সভায় হামলার চেষ্টা: ফুডপান্ডা বেশে অস্ত্রসহ আটক ২

প্রকাশের তারিখ: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বিষয়: জাতীয় নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি


ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শুরুতেই রাজধানীর পুরান ঢাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাজী এনায়েতুল্লাহর নির্বাচনী সভায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। অভিনব কায়দায় ‘ফুডপান্ডা’র ডেলিভারি ম্যান সেজে তারা ওই ভবনে প্রবেশ করেছিল।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে হাজী এনায়েতুল্লাহ মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভবনে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঠিক সেই সময় তিনজন যুবক ফুডপান্ডার ডেলিভারি ব্যাগ নিয়ে লিফটে চড়ে সভাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।

  • সন্দেহ ও চ্যালেঞ্জ: ভবনটি বাণিজ্যিক হওয়ায় সেখানে কোনো আবাসিক ফ্ল্যাট নেই। তাই ফুডপান্ডার ব্যাগ নিয়ে কাউকে উপরে উঠতে দেখে ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর সন্দেহ হয়। তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং জানতে চান, "এখানে তো কেউ থাকে না, তাহলে খাবার অর্ডার করলো কে?"
  • আটক ও তল্লাশি: নিরাপত্তা প্রহরীর প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় তারা ভড়কে যায়। এসময় যার কাছে অস্ত্রের ব্যাগটি ছিল সে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি দুজনকে স্থানীয় জনতা ও দলীয় কর্মীরা ধরে ফেলে।
  • উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম: তাদের বহন করা ফুডপান্ডার ব্যাগ তল্লাশি করে ধারালো চাপাটি, মুখোশ, চেতনানাশক স্প্রে এবং নাইলনের রশি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও থানা ঘেরাও

ঘটনার পরপরই চকবাজার মডেল থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা চকবাজার থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে প্রার্থীর সমাবেশে অনুপ্রবেশ করেছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত চালাচ্ছেন।

প্রার্থীর অভিযোগ ও শঙ্কা

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাজী এনায়েতুল্লাহ গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন:

"নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। আমার জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ দলের কোনো প্রভাবশালী প্রার্থী, যাদের পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব রয়েছে, তারা আমাকে হত্যা বা হামলার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করে থাকতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরাপত্তা চাইলেও এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শেষ কথা

নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে খোদ রাজধানীর বুকে এমন ঘটনায় জনমনে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ তদন্ত শেষে এই ঘটনার মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পারে কি না।

Post a Comment

0 Comments