কুমিল্লা প্রতিনিধি ও চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল, কাজী রাসেল ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সোলেমান চৌধুরী। তাৎক্ষণিক আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে বিভিন্ন ধরণের উসকানিমূলক কথা বলতে থাকেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলা চালায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে এলে জামায়াত-শিবির ফের তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমি ও আমার গাড়ি চালক আহত হই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। বর্তমানে পরিস্থতি শান্ত রয়েছে।

0 Comments