পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সারজিস আলমের অভিযোগ: 'পরিকল্পিত হামলা'
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সারজিস আলম অভিযোগ করেন, আগের দিন আটোয়ারীতে তার শেষ নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির জনসভার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। এর পরপরই তার সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
সারজিস আলমের দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার পর 'নাটক' শুরু করা হয়েছে এবং আহত না হয়েও কিছু লোক অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মতে, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, তার গাড়িতে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ
সারজিস আলম প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "হামলায় মানুষ রক্তাক্ত হলেও প্রশাসন কেবল 'হাত মেলানোর' মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্রার্থীর ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা কমাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

0 Comments