শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল (হাতবোমা) তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকায় একটি বসতঘরে ককটেল বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নুরুল ইসলাম বেপারীকে ১ নম্বর আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে।
ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য
ঘটনার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম বেপারী হাসিমুখে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। ওই সময় জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিলাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা মাঝেমধ্যেই এলাকায় এসে প্রভাব বিস্তার এবং হুমকি দিচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, "পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম এক প্রার্থীকে নির্বাচনি প্রচারণার সময় মালা পরানোর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।"
বোমা মামলার প্রধান আসামির এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমনে শঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

0 Comments