
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৪১ ভিশন ও ২৬ অগ্রাধিকার: জনগণের ইশতেহার
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে আমিরে জামায়াত বলেন, এই ইশতেহার কোনো দলের নয়, এটি জনগণের। এটি বিভক্তির নয়, ঐক্যের দলিল।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ৪১টি ভিশন নিয়ে তৈরি করা এই ইশতেহারে ২৬টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন
ইশতেহারের প্রথম ভাগে একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে:
- নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার ও জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন।
- দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন।
- আইন ও বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
- তথ্য ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও উন্নয়ন।
অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্ত
ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, শিল্প, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ খাতকে অগ্রাধিকার দেবে।
এছাড়াও কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটানোর রূপরেখাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ
‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে। ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাওয়া ২৬টি বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
- বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
- সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র।
- সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।
- বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার।
- জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন।
এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
0 Comments