চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উঠান বৈঠক থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম.এ. হান্নানের হোগলি গ্রামে পূর্বনির্ধারিত উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে হান্নান বক্তব্য বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি ষোলদানা গ্রামে আরেকটি বৈঠকে গেলেও সেখানে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হন।
উভয় পক্ষের আহত নেতাকর্মীদের তালিকা
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ধানের শীষ প্রতীক: এমরান হোসেন স্বপন (পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক), রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।
প্রশাসনের বক্তব্য
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।”
বর্তমানে ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

0 Comments